দাঁতে পাথর কেন হয়? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
দাঁতে পাথর বা ক্যালকুলাস জমার কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি এবং নিরাপদ চিকিৎসা সম্পর্কে সহজ ও পূর্ণাঙ্গ গাইড।

দাঁতে পাথর কেন হয়? কারণ, লক্ষণ ও চিকিৎসা
দাঁতে পাথর হয় যখন দাঁতের উপর জমে থাকা নরম প্লাক সময়মতো পরিষ্কার না হয়ে শক্ত হয়ে যায়। এই শক্ত আস্তরণকে ডেন্টাল ক্যালকুলাস বা টারটার বলা হয়। দাঁতের পাথর সাধারণ ব্রাশে পুরোপুরি দূর হয় না; প্রয়োজন হলে ডেন্টিস্টের মাধ্যমে স্কেলিং ও পলিশিং করাতে হয়।
গাজীপুর, জয়দেবপুর বা শিমুলতলী রোড এলাকায় দাঁতের গোড়ায় হলুদ-বাদামি আস্তরণ, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া কিংবা মুখে দুর্গন্ধ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে পরীক্ষা করানো ভালো। দাঁতে পাথর থাকা মানেই যে গুরুতর রোগ হয়েছে—তা নয়; তবে দীর্ঘদিন থাকলে মাড়ির প্রদাহ ও দাঁতের আশপাশের টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে।
সংক্ষেপে
- প্লাক পরিষ্কার না হলে তা শক্ত হয়ে দাঁতের পাথরে পরিণত হয়।
- দাঁতের পাথরের সাধারণ লক্ষণ হলো মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ এবং দাঁতের গোড়ায় শক্ত আস্তরণ।
- শক্ত পাথর সাধারণত ব্রাশে দূর হয় না; স্কেলিংয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়।
- ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ গাজীপুরে স্কেলিং ও পলিশিং সেবা পাওয়া যায়।
- মাড়ির রক্তপাত, ফোলা বা দাঁত নড়বড়ে লাগলে সঠিক কারণ জানতে ডেন্টিস্টের পরীক্ষা জরুরি।
দাঁতে পাথর কীভাবে তৈরি হয়?
খাবার খাওয়ার পর দাঁতের উপর ব্যাকটেরিয়া, খাবারের ক্ষুদ্র কণা এবং লালার উপাদান মিলে একটি আঠালো স্তর তৈরি করে। এই স্তরকে প্লাক বলা হয়। প্রতিদিন সঠিকভাবে ব্রাশ ও দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার না করলে প্লাক দাঁতের গোড়া, দাঁতের মাঝের অংশ এবং মাড়ির কিনারায় জমতে থাকে।
প্লাকে থাকা ব্যাকটেরিয়া খাবারের চিনি ব্যবহার করে অ্যাসিড তৈরি করতে পারে। এর ফলে দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ে। আবার লালায় থাকা খনিজ পদার্থের সঙ্গে প্লাক মিশে গেলে তা ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে ক্যালকুলাস বা দাঁতের পাথরে পরিণত হয়।
দাঁতের পাথর সাধারণত সাদা, হলুদ, বাদামি বা কালচে রঙের হতে পারে। রঙ নির্ভর করে পাথর কতদিনের, ধূমপান বা পান-জর্দার অভ্যাস আছে কি না এবং খাবার বা পানীয়ের দাগ কতটা জমেছে তার ওপর।
দাঁতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণ কী?
১. নিয়মিত বা সঠিকভাবে ব্রাশ না করা
দিনে একবার ব্রাশ করা, খুব অল্প সময় ব্রাশ করা অথবা দাঁতের সব দিক পরিষ্কার না করলে প্লাক থেকে যেতে পারে। শুধু সামনের দাঁত পরিষ্কার করলেই হবে না; দাঁতের পেছনের অংশ, মাড়ির কিনারা এবং চিবানোর অংশও পরিষ্কার করতে হয়।
২. দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার না করা
টুথব্রাশের ব্রিসল অনেক সময় দাঁতের মাঝের সরু জায়গায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে সেখানে খাবারের কণা ও প্লাক জমে মাড়িতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ডেন্টাল ফ্লস বা অন্য উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ক্লিনিং পদ্ধতি ব্যবহার সম্পর্কে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া যায়।
৩. দাঁত আঁকাবাঁকা বা খুব ঘন হওয়া
আঁকাবাঁকা দাঁত, দাঁতের মধ্যে অতিরিক্ত ফাঁক, ভাঙা ফিলিং বা অসমান দাঁতের কারণে কিছু জায়গা পরিষ্কার করা কঠিন হতে পারে। এসব জায়গায় প্লাক জমে দাঁতের পাথর হওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে।
৪. অতিরিক্ত চা, কফি, ধূমপান বা তামাকজাত দ্রব্য
চা-কফি দাঁতে দাগ ফেলতে পারে। ধূমপান, জর্দা, গুল বা অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য মাড়ির স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দাঁতের পাথরকে আরও গাঢ় দেখাতে পারে।
৫. মুখ শুকিয়ে থাকা
লালা মুখ পরিষ্কার রাখতে সহায়তা করে। মুখ দীর্ঘসময় শুকনো থাকলে প্লাক সহজে জমতে পারে। কম পানি পান, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া, কিছু শারীরিক অবস্থা বা নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাবে মুখ শুকনো লাগতে পারে। এর কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন হতে পারে।
৬. মাড়ির যত্নের অভাব
মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে অনেকে ব্রাশ করা কমিয়ে দেন। এতে সমস্যার সমাধান না হয়ে বরং প্লাক আরও জমতে পারে। মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার কারণ জানতে ডেন্টিস্টের পরীক্ষা করা উচিত।
দাঁতে পাথর হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
দাঁতের পাথর সবসময় ব্যথা সৃষ্টি করে না। তাই ব্যথা না থাকলেও নিচের লক্ষণগুলো থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া দরকার:
- দাঁতের গোড়ায় শক্ত হলুদ, বাদামি বা কালচে আস্তরণ
- ব্রাশ বা খাবার খাওয়ার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
- মাড়ি লাল, ফোলা বা স্পর্শে সংবেদনশীল হওয়া
- মুখে দুর্গন্ধ বা বারবার খারাপ স্বাদ অনুভূত হওয়া
- দাঁতের উপরিভাগে দাগ জমা
- মাড়ি সরে গিয়ে দাঁত কিছুটা লম্বা দেখানো
- ঠান্ডা বা গরম খাবারে দাঁত শিরশির করা
- দাঁত নড়বড়ে লাগা বা চিবাতে অস্বস্তি হওয়া
এই লক্ষণগুলোর কয়েকটি অন্য মাড়ির সমস্যা বা দাঁতের ক্ষয়ের সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে। তাই শুধু লক্ষণ দেখে নিজে রোগ নির্ণয় না করে ডেন্টিস্টের পরীক্ষা করানো নিরাপদ।
দাঁতের পাথর থাকলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
দাঁতের পাথর নিজে শক্ত একটি আস্তরণ হলেও এর খসখসে পৃষ্ঠে আরও প্লাক সহজে জমে। ফলে মাড়িতে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হতে পারে। প্রথমে মাড়ি ফুলে যাওয়া বা রক্ত পড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। অবস্থা দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকলে দাঁতের আশপাশের টিস্যু ও হাড় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
এর ফলে মাড়ি সরে যাওয়া, দাঁত সংবেদনশীল হওয়া বা দাঁত নড়বড়ে লাগতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের জটিলতা হবে—এমন নয়। দাঁতের পাথরের পরিমাণ, মাড়ির বর্তমান অবস্থা, মুখের পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসার প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়।
মুখে দুর্গন্ধের কারণও শুধু দাঁতের পাথর নয়। দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সংক্রমণ, জিহ্বায় জমা আস্তরণ বা অন্য কিছু কারণ থাকতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ থাকলে পরীক্ষা করা জরুরি।
দাঁতের পাথরের চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?
ধাপ ১: মুখ ও মাড়ি পরীক্ষা
প্রথমে ডেন্টিস্ট দাঁত, মাড়ি এবং দাঁতের গোড়ার অবস্থা দেখবেন। কোথায় পাথর জমেছে, মাড়িতে রক্তপাত বা ফোলা আছে কি না এবং দাঁতের কোনো ক্ষয় রয়েছে কি না—তা মূল্যায়ন করা হতে পারে। প্রয়োজন হলে ডেন্টাল এক্স-রে বা অন্য ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
ধাপ ২: স্কেলিং
স্কেলিং হলো বিশেষ ডেন্টাল যন্ত্রের সাহায্যে দাঁতের উপর ও মাড়ির কিনারায় জমে থাকা শক্ত পাথর বা ক্যালকুলাস অপসারণের প্রক্রিয়া। পাথরের পরিমাণ ও অবস্থার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসার সময় ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে একবারে পরিষ্কার করা সম্ভব হয়, আবার বেশি জমে থাকলে একাধিক সেশন প্রয়োজন হতে পারে।
ধাপ ৩: পলিশিং
স্কেলিংয়ের পর দাঁতের উপরিভাগ পলিশ করা হতে পারে। এতে কিছু বাহ্যিক দাগ ও খসখসে অনুভূতি কমতে পারে। তবে পলিশিং দাঁতের ভেতরের ক্ষয় বা মাড়ির রোগের চিকিৎসা নয়; এটি স্কেলিংয়ের পর দাঁতের উপরিভাগ মসৃণ করতে সহায়ক একটি ধাপ।
ধাপ ৪: প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত চিকিৎসা
যদি মাড়িতে গভীর প্রদাহ, দাঁতের ক্ষয়, দাঁত নড়বড়ে হওয়া বা অন্য সমস্যা থাকে, তাহলে স্কেলিংয়ের পাশাপাশি আলাদা চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে। সঠিক চিকিৎসা জানতে সরাসরি পরীক্ষা জরুরি।
স্কেলিং করলে কি ব্যথা হয়?
বেশিরভাগ মানুষের জন্য স্কেলিং সহনীয় একটি চিকিৎসা। তবে দাঁতের গোড়া উন্মুক্ত থাকলে, মাড়ি বেশি সংবেদনশীল হলে অথবা পাথর মাড়ির কাছাকাছি গভীরে জমে থাকলে সাময়িক অস্বস্তি বা শিরশির অনুভূত হতে পারে। চিকিৎসার আগে নিজের সংবেদনশীলতা বা অস্বস্তির কথা ডেন্টিস্টকে জানানো উচিত।
স্কেলিংয়ের পর এক-দুই দিন ঠান্ডা বা গরম খাবারে সংবেদনশীলতা থাকতে পারে। এটি সবার ক্ষেত্রে হয় না এবং কতটা হবে তা দাঁত ও মাড়ির অবস্থার ওপর নির্ভর করে। অস্বস্তি বেশি হলে বা দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে ক্লিনিকে যোগাযোগ করা উচিত।
গাজীপুরে দাঁতের পাথর পরিষ্কারের খরচ কত?
দাঁতের পাথর পরিষ্কারের খরচ ক্লিনিক, পাথরের পরিমাণ, মাড়ির অবস্থা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ধরন অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে। ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এর প্রকাশিত মূল্যতথ্য অনুযায়ী স্কেলিংয়ের নিয়মিত মূল্য ১,৫০০ টাকা এবং বর্তমান অফার মূল্য ৯৯৯ টাকা। এই অফারে পলিশিং এবং ফুল মাউথ চেকআপ ও কনসালটেশন ফ্রি উল্লেখ করা হয়েছে। অফার সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
| সেবা | নিয়মিত মূল্য | প্রকাশিত অফার মূল্য | অন্তর্ভুক্ত সুবিধা |
|---|---|---|---|
| স্কেলিং | ৳১,৫০০ | ৳৯৯৯ | পলিশিং, ফুল মাউথ চেকআপ ও কনসালটেশন ফ্রি |
মূল্য তুলনা করার সময় শুধু কম দাম নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ, যন্ত্রপাতি, পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুমুক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত আছে কি না—এসবও বিবেচনা করা উচিত। গাজীপুরে স্থানীয়ভাবে মানসম্মত চিকিৎসা নেওয়া অনেক রোগীর জন্য ঢাকায় যাতায়াতের সময় ও অতিরিক্ত খরচ কমানোর সুবিধা দিতে পারে। ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস সুলভ ও স্বচ্ছ মূল্যতালিকার মাধ্যমে রোগীকে খরচ সম্পর্কে আগে জানার সুযোগ দেয়।
দাঁতের পাথর পরিষ্কারের জন্য গাজীপুরে কোথায় যাবেন?
জয়দেবপুর ও শিমুলতলী রোডের আশপাশে ডেন্টাল ক্লিনিক খুঁজলে ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions) একটি বাস্তবসম্মত স্থানীয় বিকল্প। এখানে আধুনিক ডেন্টাল সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত সেটআপ এবং রোগীবান্ধব পরিবেশে দাঁত ও মাড়ির সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া হয়।
স্কেলিং ও পলিশিংয়ের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী দাঁতের ফিলিং, মাড়ির চিকিৎসা, ডেন্টাল এক্স-রে, রুট ক্যানাল চিকিৎসা এবং অন্যান্য ডেন্টাল সেবা সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়া যায়। চিকিৎসা নির্ধারণের আগে ডা. আতিয়া শাহনাজ রোগীর সমস্যা পরীক্ষা করে উপযুক্ত পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি বিডিএস (ঢাকা), পিজিটি (ওএমএফএস) এবং ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতালের সঙ্গে শিক্ষাগতভাবে সম্পৃক্ত; এস্থেটিক ডেন্টিস্ট্রি ও এডভান্সড এন্ডোডন্টিকস বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
স্কেলিং ও পলিশিংয়ের চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এখানে দেখুন। বর্তমান মূল্যতথ্য দেখতে মূল্য তালিকা এবং চিকিৎসকের তথ্যের জন্য ডাক্তার প্রোফাইল দেখতে পারেন।
দাঁতের পাথর প্রতিরোধে কী করবেন?
দাঁতের পাথর পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সবসময় সম্ভব না হলেও নিয়মিত পরিচর্যায় এর জমা কমানো যায়।
- দিনে অন্তত দুইবার প্রায় দুই মিনিট করে ব্রাশ করুন।
- মাড়ির কিনারা বরাবর আলতোভাবে ব্রাশ করুন; অতিরিক্ত জোরে ঘষবেন না।
- দাঁতের ফাঁকে খাবার জমলে উপযুক্ত ফ্লস বা ইন্টারডেন্টাল ক্লিনিং পদ্ধতি সম্পর্কে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
- ব্রাশের পর জিহ্বা পরিষ্কার করুন, কারণ জিহ্বাতেও ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে।
- ধূমপান, জর্দা, গুল ও তামাকজাত দ্রব্য এড়িয়ে চলুন।
- অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার ও চিনিযুক্ত পানীয় কমান।
- দাঁতে কোনো খসখসে আস্তরণ, মাড়ির রক্তপাত বা দুর্গন্ধ থাকলে পরীক্ষা করান।
- দাঁত দিয়ে বোতলের ঢাকনা খোলা বা শক্ত জিনিস ভাঙার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
শুধু ঘরোয়া উপায়ে শক্ত দাঁতের পাথর খোঁচানো বা ধারালো বস্তু দিয়ে তুলতে যাবেন না। এতে মাড়ি কেটে যেতে পারে, দাঁতের উপরিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। লেবু, বেকিং সোডা বা অতিরিক্ত ঘষাঘষি দাঁতের পাথরের নিরাপদ চিকিৎসা নয়।
কখন দ্রুত ডেন্টিস্ট দেখানো জরুরি?
মাড়ি থেকে বারবার রক্ত পড়া, মুখ বা গাল ফুলে যাওয়া, পুঁজের মতো নিঃসরণ, তীব্র ব্যথা, জ্বর, দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া বা গিলতে ও শ্বাস নিতে কষ্ট হলে দ্রুত পেশাদার চিকিৎসা নিন। মুখে আঘাতের পর দাঁত ভেঙে গেলে বা রক্তপাত বন্ধ না হলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু দাঁতে পাথর আছে কি না তা বোঝার জন্যও ডেন্টিস্টের পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কারণ একই ধরনের লক্ষণ দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির রোগ বা অন্য মুখের সমস্যায় দেখা দিতে পারে।
গাজীপুরে ফ্লোরা ডেন্টালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেবেন কীভাবে?
ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ দাঁতের পাথর, মাড়ির রক্তপাত, মুখের দুর্গন্ধ বা স্কেলিং সম্পর্কে পরামর্শ নিতে আগে ফোন বা WhatsApp-এ যোগাযোগ করতে পারেন। সুলভ ও স্বচ্ছ মূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা, আধুনিক সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্ন সেটআপ এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ—এই সুবিধাগুলো স্থানীয় রোগীদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
ঠিকানা: শিমুলতলী রোড, জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন, গাজীপুর।
চেম্বার সময়: প্রতিদিন (শুক্রবারসহ) বিকেল ৪টা – রাত ৯টা।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট: ফোন/WhatsApp 01601002588।
আপনার মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতের গোড়ায় পাথর বা মুখে দুর্গন্ধ থাকলে দেরি না করে পরীক্ষা করান। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেজ ব্যবহার করতে পারেন অথবা সরাসরি ০১৬০১০০২৫৮৮ নম্বরে ফোন/WhatsApp করতে পারেন।
গাজীপুরের সেরা ডেন্টাল ডাক্তার (Best Dental Doctor in Gazipur) — ডা. আতিয়া শাহনাজ
আপনি যদি “best dental doctor in Gazipur”, “dentist near me” বা “আমার কাছাকাছি ডেন্টাল ক্লিনিক” খুঁজে থাকেন, তাহলে ডা. আতিয়া শাহনাজ (BDS, PGT — OMFS) এবং তাঁর চেম্বার Flora Advanced Dental Solutions — গাজীপুরের অন্যতম সেরা ডেন্টাল চেম্বার আপনার কাছেই। জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা, শিমুলতলী রোড, গাজীপুর — প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা।
- ✅ Best dental clinic near me in Gazipur / Joydebpur
- ✅ অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন — রুট ক্যানাল, স্কেলিং, ফিলিং, ইমপ্ল্যান্ট
- ✅ কাছাকাছি ডেন্টিস্ট — সহজ যাতায়াত ও সাশ্রয়ী খরচ
- ✅ আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জীবাণুমুক্ত চেম্বার

এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে
ডা. আতিয়া শাহনাজ
বিডিএস (ঢাকা), পিজিটি (ওএমএফএস) · মুখ ও দাঁতের সার্জন
“সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিয়মিত যত্ন নিন এবং প্রয়োজনে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।”
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন:দাঁতে পাথর কেন হয়?+
দাঁতে জমে থাকা প্লাক নিয়মিত ও সঠিকভাবে পরিষ্কার না হলে তা শক্ত হয়ে ক্যালকুলাস বা দাঁতের পাথরে পরিণত হয়। অপর্যাপ্ত ব্রাশিং, দাঁতের ফাঁকে খাবার জমা, ধূমপান এবং মাড়ির যত্নের অভাব এই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।
প্রশ্ন:দাঁতের পাথর কি শুধু ব্রাশ করলেই দূর হয়?+
নরম প্লাক নিয়মিত ব্রাশ ও ফ্লসিংয়ে কমানো যায়, কিন্তু শক্ত হয়ে যাওয়া দাঁতের পাথর সাধারণত ব্রাশে দূর হয় না। এটি অপসারণের জন্য ডেন্টিস্টের মাধ্যমে স্কেলিং প্রয়োজন হতে পারে।
প্রশ্ন:দাঁতে পাথর হলে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?+
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, মুখে দুর্গন্ধ, দাঁতের গোড়ায় হলুদ বা বাদামি শক্ত আস্তরণ এবং মাড়ি ফুলে যাওয়া সাধারণ লক্ষণ। কারও ক্ষেত্রে দাঁত সংবেদনশীলতা বা দাঁত নড়বড়ে লাগাও দেখা দিতে পারে।
প্রশ্ন:স্কেলিং করলে কি দাঁতের ক্ষতি হয়?+
সঠিক যন্ত্র ও প্রশিক্ষিত ডেন্টিস্টের মাধ্যমে স্কেলিং করলে সাধারণত দাঁতের ক্ষতি হয় না। পাথর সরানোর পর সাময়িক সংবেদনশীলতা অনুভূত হতে পারে, তবে দাঁতের প্রকৃত ক্ষতি হয়েছে—এমন ধারণা সাধারণত ভুল।
প্রশ্ন:গাজীপুরে দাঁতের পাথর পরিষ্কার করতে কোথায় যাব?+
গাজীপুরের জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ স্কেলিং ও পলিশিং সেবা পাওয়া যায়। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য ০১৬০১০০২৫৮৮ নম্বরে ফোন বা WhatsApp করতে পারেন।
প্রশ্ন:দাঁতের স্কেলিং করতে কত টাকা লাগে?+
ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস-এ প্রকাশিত অফার অনুযায়ী স্কেলিংয়ের মূল্য ৯৯৯ টাকা, যেখানে পলিশিং এবং ফুল মাউথ চেকআপ ও কনসালটেশন ফ্রি উল্লেখ করা হয়েছে। অফার পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাওয়ার আগে ফোন বা WhatsApp-এ বর্তমান মূল্য নিশ্চিত করুন।
প্রশ্ন:দাঁতে পাথর আবার যাতে না জমে, কী করতে হবে?+
দিনে দুইবার দুই মিনিট করে ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ, দাঁতের ফাঁক পরিষ্কার এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা সহায়ক। মাড়ির অবস্থা ও পাথর জমার প্রবণতা অনুযায়ী ডেন্টিস্টের পরামর্শে নিয়মিত পরীক্ষা বা পেশাদার পরিষ্কার করানো যেতে পারে।
সিরিয়াল নিতে চান?
শিমুলতলী রোড, গাজীপুর · প্রতিদিন খোলা (শুক্রবারসহ) — WhatsApp করুন 01601002588
💬 WhatsApp করুন