সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম: ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড
দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে কতক্ষণ, দিনে কয়বার এবং কোন কৌশলে ব্রাশ করতে হবে—জেনে নিন সহজ ধাপে।

সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম: ধাপে ধাপে পূর্ণ গাইড
সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম হলো নরম ব্রাশ দিয়ে দিনে দুইবার, প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ধরে দাঁত, মাড়ির সীমানা ও জিহ্বা পরিষ্কার করা। শুধু দ্রুত ব্রাশ করলেই হবে না; সঠিক কোণ, হালকা চাপ এবং নিয়মিত অভ্যাসই দাঁতকে প্লাক, মাড়ির প্রদাহ ও দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
দাঁত ব্রাশ করা খুব সাধারণ একটি কাজ হলেও অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম সময় ব্রাশ করেন, অতিরিক্ত চাপ দেন অথবা দাঁতের ভেতরের দিক পরিষ্কার করেন না। ফলে নিয়মিত ব্রাশ করেও দাঁতে পাথর, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতের সংবেদনশীলতা বা মুখে দুর্গন্ধ দেখা দিতে পারে। এই গাইডে গাজীপুরসহ বাংলাদেশের পরিবারগুলোর জন্য সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার সহজ ও বাস্তব নিয়ম আলোচনা করা হলো।
সংক্ষেপে সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার মূল নিয়ম
- দিনে দুইবার, সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে ব্রাশ করুন।
- প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট সময় নিন।
- সফট বা নরম ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করুন।
- ব্রাশটি দাঁতের সঙ্গে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরে মাড়ির সীমানা পরিষ্কার করুন।
- সামনে-পেছনে জোরে ঘষার বদলে ছোট ও মৃদু বৃত্তাকার নড়াচড়া করুন।
- দাঁতের বাইরের দিক, ভেতরের দিক, চিবানোর পৃষ্ঠ এবং জিহ্বা পরিষ্কার করুন।
- ব্রাশের পাশাপাশি দাঁতের ফাঁক পরিষ্কারের উপায় সম্পর্কে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
দাঁত ব্রাশ করার আগে কী কী প্রস্তুত করবেন?
সঠিক ব্রাশিংয়ের জন্য দামি সরঞ্জাম সবসময় প্রয়োজন হয় না। একটি ভালো মানের সফট ব্রিসল ব্রাশ, ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট এবং পরিষ্কার পানি যথেষ্ট হতে পারে। তবে আপনার বয়স, দাঁতের অবস্থা, মাড়ির সমস্যা, ব্রেসেস বা অন্য কোনো চিকিৎসা অনুযায়ী ব্রাশ ও টুথপেস্টের ধরন আলাদা হতে পারে।
ব্রাশের ব্রিসল বাঁকা, ছড়িয়ে যাওয়া বা শক্ত হয়ে গেলে নতুন ব্রাশ ব্যবহার করুন। সাধারণভাবে কয়েক মাস পর ব্রাশ বদলানোর প্রয়োজন হতে পারে, তবে ব্রাশের অবস্থা খারাপ হলে তার আগেই বদলানো উচিত। একই ব্রাশ পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করবেন না।
সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার ধাপগুলো কী?
১. ব্রাশে অল্প পরিমাণ টুথপেস্ট নিন
ব্রাশের ওপর প্রয়োজনমতো টুথপেস্ট লাগান। বেশি টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। শিশুদের ক্ষেত্রে টুথপেস্টের পরিমাণ বয়স অনুযায়ী হওয়া উচিত এবং তারা যেন টুথপেস্ট গিলে না ফেলে, সেদিকে অভিভাবকের নজর রাখা দরকার।
২. ব্রাশটি মাড়ির সীমানায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে ধরুন
দাঁত ও মাড়ির যেখানে সংযোগ, সেখানে প্লাক বেশি জমতে পারে। তাই শুধু দাঁতের মাঝখানে ব্রাশ না করে ব্রিসলের কিছু অংশ মাড়ির সীমানায় রাখুন। ব্রাশটি খুব জোরে চেপে ধরবেন না। হালকা চাপই যথেষ্ট।
৩. ছোট বৃত্তাকার নড়াচড়ায় দাঁতের বাইরের অংশ পরিষ্কার করুন
দাঁতের সামনের ও পাশের অংশে ছোট ছোট বৃত্তাকার গতিতে ব্রাশ করুন। এক জায়গায় দ্রুত কয়েকবার ঘষে চলে না গিয়ে ধীরে ধীরে প্রতিটি দাঁতের ওপর দিয়ে ব্রাশ চালান। শক্ত হাতে ডান-বাম ঘষলে দাঁতের এনামেল ক্ষয় এবং মাড়ি সরে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
৪. দাঁতের ভেতরের দিক পরিষ্কার করুন
অনেকেই শুধু হাসলে দেখা যায় এমন সামনের অংশ ব্রাশ করেন। কিন্তু দাঁতের পেছনের দিকেও প্লাক জমে। তাই ওপরের ও নিচের দাঁতের ভেতরের অংশ আলাদাভাবে পরিষ্কার করুন। সামনের নিচের দাঁতের ভেতরের অংশে লালার কারণে দ্রুত ময়লা জমতে পারে, তাই ওই জায়গায় বিশেষ মনোযোগ দিন।
৫. চিবানোর পৃষ্ঠ পরিষ্কার করুন
পেছনের দাঁতের ওপরের চিবানোর অংশে ছোট গর্ত ও খাঁজ থাকে। সেখানে খাবারের কণা আটকে থাকতে পারে। ব্রাশের ব্রিসল দিয়ে এই অংশে ধীরে ধীরে সামনে-পেছনে এবং ছোট বৃত্তাকার নড়াচড়া করুন।
৬. সামনের দাঁতের ভেতরের অংশ উল্লম্বভাবে ব্রাশ করুন
সামনের দাঁতের পেছনের সরু জায়গায় সাধারণভাবে ব্রাশ চালানো কঠিন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্রাশটি উল্লম্বভাবে ধরে ওপরের দাঁতে ওপর থেকে নিচে এবং নিচের দাঁতে নিচ থেকে ওপরের দিকে মৃদু নড়াচড়া করুন।
৭. জিহ্বা পরিষ্কার করুন
জিহ্বার ওপর ব্যাকটেরিয়া ও খাবারের আবরণ জমে মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে। ব্রাশের পেছনের অংশ বা জিহ্বা পরিষ্কার করার উপযুক্ত টুল দিয়ে খুব হালকা হাতে জিহ্বা পরিষ্কার করুন। অতিরিক্ত জোরে ঘষবেন না, কারণ এতে জিহ্বায় জ্বালা বা ক্ষত হতে পারে।
৮. ব্রাশ ধুয়ে শুকনো জায়গায় রাখুন
ব্যবহারের পর ব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে সোজা করে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে বাতাস চলাচল করে। ব্রাশটি ঢাকনা দিয়ে ভেজা অবস্থায় বন্ধ করে রাখলে জীবাণু জমার সুযোগ বাড়তে পারে। অন্যের ব্রাশের সঙ্গে ব্রিসল যেন না লাগে, সেটিও খেয়াল করুন।
দিনে কখন দাঁত ব্রাশ করা সবচেয়ে ভালো?
সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সকালে ঘুম থেকে উঠে ব্রাশ করলে মুখের দুর্গন্ধ ও রাতভর জমে থাকা আবরণ পরিষ্কার হয়। নাশতার পর ব্রাশ করার অভ্যাস থাকলে নাশতার পর কিছুটা সময় অপেক্ষা করে ব্রাশ করা ভালো, বিশেষ করে টক বা অ্যাসিডিক খাবার ও পানীয় গ্রহণের পর।
রাতের ব্রাশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ঘুমের সময় মুখে লালার প্রবাহ কমে যায়। ব্রাশ না করে ঘুমালে খাবারের অবশিষ্টাংশ ও প্লাক দীর্ঘসময় দাঁতে থাকতে পারে। রাতে ব্রাশ করার পর মিষ্টি, দুধ-চা বা অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করলে আবার পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা দরকার।
দাঁত ব্রাশ করতে কতক্ষণ সময় লাগে?
প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ব্রাশ করার লক্ষ্য রাখা ভালো। সময় হিসাব করা কঠিন হলে মুখকে চারটি অংশে ভাগ করুন—উপরের ডান, ওপরের বাম, নিচের ডান এবং নিচের বাম। প্রতিটি অংশে প্রায় ৩০ সেকেন্ড করে সময় দিন।
তবে দুই মিনিট মানে দ্রুত ও জোরে ঘষা নয়। ধীরে ধীরে সব দাঁতের বাইরের দিক, ভেতরের দিক এবং চিবানোর পৃষ্ঠে ব্রাশ পৌঁছানোই আসল বিষয়। ব্রেসেস, বাঁকা দাঁত, মাড়ির সমস্যা বা সংবেদনশীলতা থাকলে আরও নির্দিষ্ট কৌশলের প্রয়োজন হতে পারে।
দাঁত ব্রাশ করার সময় কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন?
অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্রাশ করা
বেশি চাপ দিলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয় না। বরং মাড়ি ক্ষয়, দাঁতের গোড়া উন্মুক্ত হওয়া এবং ঠান্ডা-গরমে শিরশির করার সমস্যা দেখা দিতে পারে। ব্রাশের ব্রিসল যদি ব্যবহারের কিছুদিনের মধ্যেই চারদিকে ছড়িয়ে যায়, তাহলে আপনি সম্ভবত বেশি চাপ দিচ্ছেন।
খুব শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করা
হার্ড ব্রিসল দাঁতের জন্য সবসময় ভালো নয়। নরম ব্রাশ সাধারণত দাঁত ও মাড়ির জন্য আরামদায়ক। তবে আপনার নির্দিষ্ট সমস্যার ক্ষেত্রে কোন ব্রাশ উপযুক্ত, তা ডেন্টিস্টের কাছ থেকে জেনে নিন।
খুব দ্রুত ব্রাশ শেষ করা
৩০–৪০ সেকেন্ডে ব্রাশ শেষ করলে সব জায়গায় ব্রাশ পৌঁছানো কঠিন। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে ধীরগতিতে ব্রাশ করার অভ্যাস করলে বাদ পড়ে যাওয়া জায়গা কমবে।
শুধু সামনের দাঁত পরিষ্কার করা
দাঁতের পেছনের অংশ, মাড়ির সীমানা এবং পেছনের চিবানোর দাঁতও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো বাদ দিলে মুখের ভেতরে প্লাক জমে থাকতে পারে।
দাঁতে খোঁচা দেওয়ার জন্য শক্ত বস্তু ব্যবহার করা
দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাবার বের করতে পিন, কাঠি বা ধারালো বস্তু ব্যবহার করবেন না। এতে মাড়িতে আঘাত ও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। দাঁতের ফাঁক পরিষ্কারের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি সম্পর্কে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।
শিশুদের দাঁত ব্রাশ করার সঠিক নিয়ম কী?
শিশুর প্রথম দাঁত ওঠার সময় থেকেই দাঁত পরিষ্কার করার অভ্যাস তৈরি করা উচিত। শিশুরা অনেক সময় ব্রাশ দ্রুত শেষ করে বা টুথপেস্ট গিলে ফেলে, তাই অভিভাবকের নজরদারি প্রয়োজন। শিশুকে জোর না করে খেলাধুলার মতো করে ব্রাশ শেখানো যেতে পারে।
শিশু নিজে ব্রাশ করলেও বয়স অনুযায়ী অভিভাবককে পরে দাঁত পরিষ্কার করে দিতে হতে পারে। শিশুর দাঁতে সাদা দাগ, কালো দাগ, ব্যথা বা খাবার খেতে অনীহা দেখা দিলে সমস্যাটি ছোট ভেবে অপেক্ষা না করে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন। গাজীপুরে শিশুদের দাঁতের চিকিৎসা ও পরামর্শের জন্য ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ যোগাযোগ করা যায়।
ব্রাশ করলেই কি দাঁতের পাথর দূর হয়?
না। নিয়মিত ব্রাশ প্লাক জমা কমাতে সাহায্য করে, কিন্তু শক্ত হয়ে যাওয়া ক্যালকুলাস বা দাঁতের পাথর সাধারণ ব্রাশে পুরোপুরি দূর করা যায় না। দাঁতে পাথর, মাড়ি থেকে রক্ত, মুখে দুর্গন্ধ বা দাঁতের গোড়ায় ময়লা জমলে ডেন্টিস্টের পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্কেলিং ও পলিশিং করা হতে পারে।
ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ স্কেলিংয়ের তালিকাভুক্ত নিয়মিত মূল্য ৳১,৫০০ এবং বর্তমানে দেওয়া মূল্য ৳৯৯৯। এই অফারে পলিশিং এবং ফুল মাউথ চেকআপ ও কনসালটেশন ফ্রি বলা হয়েছে। অফারের বর্তমান অবস্থা অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে ফোন বা WhatsApp-এ নিশ্চিত করে নিন।
| সেবা | তালিকাভুক্ত নিয়মিত মূল্য | বর্তমানে দেওয়া মূল্য | অন্তর্ভুক্ত সুবিধা |
|---|---|---|---|
| স্কেলিং | ৳১,৫০০ | ৳৯৯৯ | পলিশিং, ফুল মাউথ চেকআপ ও কনসালটেশন |
চূড়ান্ত চিকিৎসা আপনার দাঁত ও মাড়ির অবস্থার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু মূল্য দেখে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরীক্ষা করানো উচিত।
দাঁত ব্রাশের পরও মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে কী করবেন?
ব্রাশের সময় বারবার মাড়ি থেকে রক্ত পড়া স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। এর পেছনে প্লাক জমা, মাড়ির প্রদাহ, দাঁতের পাথর, অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্রাশ করা বা অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন, কিন্তু রক্ত পড়ছে বলে পুরোপুরি ব্রাশ বন্ধ করবেন না।
রক্তপাত দীর্ঘদিন থাকলে, মাড়ি ফুলে গেলে, মুখে দুর্গন্ধ হলে বা দাঁত নড়বড়ে মনে হলে ডেন্টিস্টের পরীক্ষা প্রয়োজন। সঠিক কারণ না জেনে ঘরোয়া উপায়ে চিকিৎসা করা বা নিজে থেকে ওষুধ খাওয়া নিরাপদ নয়।
গাজীপুরে দাঁত ও মাড়ির পরামর্শ কোথায় পাবেন?
সঠিক ব্রাশিং কৌশল শেখা, মাড়ির রক্তপাতের কারণ বোঝা, দাঁতের পাথর পরিষ্কার করা বা অন্য কোনো দাঁতের সমস্যা মূল্যায়নের জন্য গাজীপুরে ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions) বিবেচনা করতে পারেন। এখানে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং রোগীবান্ধব সেবার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ক্লিনিকের ডা. আতিয়া শাহনাজ বিডিএস (ঢাকা), পিজিটি (ওএমএফএস); ঢাকা ডেন্টাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে শিক্ষিত এবং এস্থেটিক ডেন্টিস্ট্রি ও এডভান্সড এন্ডোডন্টিকসে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দাঁত ও মাড়ির সমস্যার সঠিক কারণ জানতে চিকিৎসকের পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে।
ঠিকানা: শিমুলতলী রোড, জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন, গাজীপুর। জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে স্বপ্ন সুপার শপের দিকে গেলে, স্বপ্ন সুপার শপ থেকে ৫০ গজ উত্তরে অরেঞ্জ শো-রুমের পাশের বিল্ডিংয়ের ২য় তলায়, আব্দুর রাজ্জাক মেডিকেল হলের ওপর ক্লিনিকটি অবস্থিত।
চেম্বার সময়: প্রতিদিন (শুক্রবারসহ) বিকেল ৪টা – রাত ৯টা।
ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনসের লক্ষ্য হলো আধুনিক চিকিৎসা, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ এবং সুলভ ও স্বচ্ছ মূল্যে রোগীবান্ধব সেবা দেওয়া। গাজীপুরে স্থানীয়ভাবে পরামর্শ নেওয়ার সুবিধা থাকায় অনেক রোগীর জন্য এটি যাতায়াতের দিক থেকেও সহজ হতে পারে; তবে যে কোনো চিকিৎসার উপযুক্ততা পরীক্ষা করে নির্ধারণ করা হয়।
কখন দ্রুত ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেবেন?
নিচের কোনো লক্ষণ থাকলে নিয়মিত ব্রাশের পাশাপাশি পেশাদার পরীক্ষা করানো জরুরি হতে পারে:
- দাঁতে তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
- মাড়ি থেকে বারবার রক্ত পড়া
- মুখ বা মাড়ি ফুলে যাওয়া
- দাঁত নড়বড়ে হয়ে যাওয়া
- ঠান্ডা-গরমে দীর্ঘসময় শিরশির করা
- মুখে স্থায়ী দুর্গন্ধ
- দাঁতের ওপর শক্ত পাথর বা কালচে দাগ
- দাঁত ভেঙে যাওয়া বা আঘাত লাগা
মুখ বা গলা ফুলে শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
শেষ কথা
সঠিকভাবে দাঁত ব্রাশ করার নিয়ম মেনে চললে দাঁত ও মাড়ির দৈনন্দিন পরিচর্যা ভালোভাবে করা যায়, কিন্তু ব্রাশ সব ধরনের সমস্যা প্রতিরোধ বা চিকিৎসা করতে পারে না। দিনে দুইবার দুই মিনিট ব্রাশ, নরম ব্রিসল, হালকা চাপ, মাড়ির সীমানা পরিষ্কার এবং নিয়মিত ডেন্টাল পরীক্ষা—এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদে উপকারী।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন
দাঁত ব্রাশের সঠিক কৌশল, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া, দাঁতের পাথর বা অন্য কোনো দাঁতের সমস্যা নিয়ে পরামর্শের জন্য ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ যোগাযোগ করতে পারেন।
- অ্যাপয়েন্টমেন্ট: ফোন/WhatsApp 01601002588
- ঠিকানা: শিমুলতলী রোড, জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন, গাজীপুর
- চেম্বার সময়: প্রতিদিন (শুক্রবারসহ) বিকেল ৪টা – রাত ৯টা
অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে ফোন বা WhatsApp করে চিকিৎসার সময় ও বর্তমান মূল্য নিশ্চিত করে নিন।
গাজীপুরের সেরা ডেন্টাল ডাক্তার (Best Dental Doctor in Gazipur) — ডা. আতিয়া শাহনাজ
আপনি যদি “best dental doctor in Gazipur”, “dentist near me” বা “আমার কাছাকাছি ডেন্টাল ক্লিনিক” খুঁজে থাকেন, তাহলে ডা. আতিয়া শাহনাজ (BDS, PGT — OMFS) এবং তাঁর চেম্বার Flora Advanced Dental Solutions — গাজীপুরের অন্যতম সেরা ডেন্টাল চেম্বার আপনার কাছেই। জয়দেবপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা, শিমুলতলী রোড, গাজীপুর — প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা।
- ✅ Best dental clinic near me in Gazipur / Joydebpur
- ✅ অভিজ্ঞ ডেন্টাল সার্জন — রুট ক্যানাল, স্কেলিং, ফিলিং, ইমপ্ল্যান্ট
- ✅ কাছাকাছি ডেন্টিস্ট — সহজ যাতায়াত ও সাশ্রয়ী খরচ
- ✅ আধুনিক যন্ত্রপাতি ও জীবাণুমুক্ত চেম্বার

এই আর্টিকেলটি সম্পর্কে
ডা. আতিয়া শাহনাজ
বিডিএস (ঢাকা), পিজিটি (ওএমএফএস) · মুখ ও দাঁতের সার্জন
“সুস্থ দাঁত ও সুন্দর হাসি আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। নিয়মিত যত্ন নিন এবং প্রয়োজনে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নিন।”
সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন:দিনে কয়বার দাঁত ব্রাশ করা উচিত?+
সাধারণভাবে দিনে দুইবার, সকালে নাশতার পর এবং রাতে ঘুমানোর আগে দাঁত ব্রাশ করা ভালো। রাতে ব্রাশ করার পর পানি ছাড়া অন্য কিছু না খাওয়াই বেশি উপকারী।
প্রশ্ন:কত মিনিট দাঁত ব্রাশ করতে হয়?+
প্রতিবার প্রায় দুই মিনিট ধরে দাঁত ব্রাশ করা উচিত। মুখকে চারটি অংশে ভাগ করে প্রতিটি অংশে প্রায় ৩০ সেকেন্ড সময় দিলে সব দাঁত পরিষ্কার করা সহজ হয়।
প্রশ্ন:দাঁত ব্রাশ করার সময় মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে কী করব?+
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া প্লাক, মাড়ির প্রদাহ বা অন্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। জোরে ব্রাশ না করে নরম ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং রক্তপাত বারবার হলে ডেন্টিস্টের পরীক্ষা করান।
প্রশ্ন:শক্ত ব্রাশ ব্যবহার করলে কি দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়?+
না। শক্ত ব্রাশ বা অতিরিক্ত চাপ মাড়ি ক্ষয় করতে এবং দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। নরম বা সফট ব্রিসলের ব্রাশ ব্যবহার করে হালকা হাতে পরিষ্কার করা নিরাপদ।
প্রশ্ন:শিশুর দাঁত কখন থেকে ব্রাশ করাতে হবে?+
প্রথম দাঁত ওঠার সময় থেকেই শিশুর দাঁত পরিষ্কার করার অভ্যাস শুরু করা উচিত। শিশুর বয়স অনুযায়ী উপযুক্ত ব্রাশ ও টুথপেস্ট বেছে নিতে ডেন্টিস্টের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
প্রশ্ন:ব্রাশ করার পর কি সঙ্গে সঙ্গে কুলি করা উচিত?+
ব্রাশের পর অতিরিক্ত পানি দিয়ে বারবার কুলি না করে টুথপেস্টের ফেনা ফেলে দেওয়া ভালো। এতে টুথপেস্টের উপকারী উপাদান কিছুটা বেশি সময় দাঁতে থাকতে পারে।
প্রশ্ন:গাজীপুরে দাঁত ও মাড়ির পরামর্শ কোথায় পাওয়া যাবে?+
গাজীপুরে ফ্লোরা অ্যাডভান্সড ডেন্টাল সলিউশনস (Flora Advanced Dental Solutions)-এ ডা. আতিয়া শাহনাজের পরামর্শ নেওয়া যায়। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য 01601002588 নম্বরে ফোন বা WhatsApp করুন।
সিরিয়াল নিতে চান?
শিমুলতলী রোড, গাজীপুর · প্রতিদিন খোলা (শুক্রবারসহ) — WhatsApp করুন 01601002588
💬 WhatsApp করুন